সোহানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ
অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলো সোহানের। এই পরীক্ষাটিই ছিল বিষের কাঁটা। না পড়াশোনা করা যায়, না খেলা দেখা যায়। সোহান ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। পড়া শোনায় মোটামুটি। খুব ভালোও নয়, একেবারে খারাপও নয়।
মা-বাবা জানেন, সোহান ভালো ছাত্র। তাদের চোখে সে সোনার ছেলে—খুব পড়ুয়া ও পড়াশোনায় মনোযোগী।
তাই সোহানের মা-বাবা খুব যত্ন নেন তার। তাদের একমাত্র সন্তান সোহান।
আর্জেন্টিনার বেশির ভাগ খেলা পড়েছে রাত একটায়। অত রাত জেগে খেলা দেখলে পরীক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে তাই সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলা দেখা হয়নি । আর্জেন্টিনার একটা খেলা রাত দশটায় ছিল তখন খেলা দেখলে আবার পরীক্ষার পড়া পড়বে কখন? এ জন্য সেই খেলাটিও দেখা হয়নি তার। তবে কয়েক মিনিট পরপর স্কোর দেখেছে সে । অন্তরে ফুটবল বাইরে পড়াশোনা এভাবেই পড়তে হয়েছে সোহানের। মা-বাবা জেনেছেন তাদের ছেলে খুব ভালো মতোই পড়াশোনা করছে।চমৎকার ফলাফল করবে। খুবই মনোযোগী ছেলে আর্জেন্টিনার খেলা না দেখেও পড়াশোনা করছে। বাস্তবে খুব একটা ভালো পরীক্ষা হয়নি। পরীক্ষার ফল প্রকাশ করলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। সোহান এ ফলাফল নিয়ে তেমন ভাবছে না। বার্ষিক পরীক্ষাই আসল পরীক্ষা। তখন তো খেলা থাকবে না। ভালো করে পরীক্ষা দিয়ে, ভালো ফলাফল করে মা-বাবাকে দেখাবে তার ছেলে পড়াশোনায় খুব ভালো। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল কোনো বাবা- মা জানেনই না কখন দেয়! তাই সোহানের আর ভয় নেই। তারা জানতেই পারবেন না। যাহোক পরীক্ষা শেষ। ২০ তারিখে ফাইনাল খেলা। পরীক্ষার চিন্তা নেই।তবুও বুকের ভেতর ব্যথায় টনটন করছে। কী জানি কী হয়?
স্পেন শক্তিশালী দল। তাছাড়া লামিন ইয়ামাল তরুণ খেলোয়াড় কখন কী করে দেয়! বলা মুশকিল। নাওয়া-খাওয়া, ঘুম কমই হচ্ছে। হারলে ট্রলের অভাব হবে না। হলুদিয়া বন্ধুরা ওৎ পেতে বসে আছে।
নানান সময় নানান কথা বলে ট্রল করে। কমিটির দল, চোরের দল আরো কত কী বলে তারা। এই সব থেকে বাঁচতে হলে জিততে তো হবেই তাদের। তবে মনে সাহস আছে সোহানের। তার দলে মেসি আছে। তাকে ফুটবলের যাদুকর বলা হয়। এই ৩৯ বছর বয়সেও টগবগে তরুণ। সোনার বুট পাওয়ার দৌড়ে এখনো সে এগিয়ে এমনকি সোনার বলটি পাওয়ারও দাবি রাখে। যেকোন সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা তার আছে। সেজন্যই সোহান ভাবে বিশ্বকাপটা মেসির হাতেই উঠবে এবং আর্জেন্টাইনরা বিজয়ের পতাকা তুলে ধরবে সবার উঁচুতে। সোহান সব সময় সেই ভাবনায় আছে। ঘুমিয়েও তাই মাঝে মাঝে মেসি,মেসি…আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা… বলতে থাকে।