নেত্রকোনায় গুলিতে নিহত সাংবাদিক আগে থেকেই ‘ঝুঁকিতে ছিলেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির আগে থেকেই নিরাপত্তাঝুঁকিতে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগেও তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। লেখালেখির কারণে তিনি ঝুঁকিতে ছিলেন বলে জানিয়েছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নিহত আলিফ ফকির ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখি করতেন তিনি। পাশাপাশি একটি বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেলে নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চায়ের দোকান থেকে বের হয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন আলিফ। এ সময় দুই ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করে কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, তিনি নিজেও ওই সাংবাদিককে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন।

তবে কী কারণে এবং কারা তাঁকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এর আগে কারা তাঁকে হুমকি দিয়েছিল বা হামলা করেছিল, সে বিষয়েও পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত সাংবাদিকের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি সংবাদ প্রকাশের পর তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে কারা সেই হুমকি দিয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, লেখালেখি নিয়ে শত্রুতা কিংবা আগের হামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।