বড়াইগ্রামে নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন মিনতি রায়

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি, মো. আশরাফুল ইসলাম(এমবিএ মার্কেটিং) মো. আলমগীর কবিরাজ ##
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ও নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন মিনতি রায়। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও নারী-স্বাস্থ্য বিষয়ে উঠান বৈঠক ও সেমিনারের মাধ্যমে দীর্ঘ্য ১২/১৩ বছর যাবত সচেতনামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিনী মিনতি রায়। তিনি উপজেলার বনপাড়া মৃধাপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী অখিল রায়ের স্ত্রী।
তার ১২ বছর ৭ মাস বয়সে দরিদ্র পরিবারে বিয়ে হয়। তিনি ২ সন্তানের জননী। বাল্যকালে বিয়ে হওয়ায় যেসব অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছেন, সেগুলো নিয়ে সচেতনামূলক উঠান বৈঠক শুরু করেন। উঠান বৈঠকে বাল্য বিয়ের কুফল, বাল্য বিয়ে বন্ধের প্রয়োজনীয়তা, বাল্য বিয়ে বন্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সেমিনার করেন পাশের গ্রাম গুনাইহাটি, ছাতিয়ানগাছা গ্রামে।
নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনন্য অবদান রাখছেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের অধিকার রক্ষায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও উঠান বৈঠক পরিচালনা করেন। এছাড়া, নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে তিনি চিকিৎসকদের সহায়তায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের শত শত কিশোরী অকাল বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে জানতে পারছে। সংক্ষেপে বলা যায়, অনিকা রায়ের এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা সমাজে বাল্যবিবাহের হার কমাতে এবং নারী স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
তিনি সকল ধর্মের মানুষের কাছে বসেন ও তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেন। ধীরে, ধীরে তাদের একত্রিত করে তিনি “আমরা স্বাধীন মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ ” নামে একটি সংগঠন তৈরী করলেন এবং তাদের নিয়ে সমাজ থেকে কিভাবে বাল্য বিবাহ দুর করা যায় সে বিষয়ে সেমিনার করেন। এক জন কন্যা শিশু অল্প বয়সে বিয়ে দিলে তার শরীর, মন ভেঙ্গে পড়ে, পিতা-মাতা ছেড়ে নতুন বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে খাপখাইয়ে চলতে ব্যর্থ হয়, সংসারে নেমে আসে অশান্তি। ফলে পরিবারে সৃষ্টি হয় বিভাজন, কখনো বিচ্ছেদ।
বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই গর্ভে আসে বাচ্চা। অপ্রাপ্ত বয়সে পড়তে হয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুকিতে। এ বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন সেমিনারে। তার পরামর্শে অনেক বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। নারী রোগাক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সেচ্ছায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
এসব সেবা প্রদান করায় তিনি এলাকার মহিলাদের হয়ে উঠেছেন মমতাময়ী মা। তিনি সফল উদ্যোক্তা। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে দক্ষ উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন ও সরকারী কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবেন।