নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ আলমগীর কবিরাজ @@
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় সেচ্ছায় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ও নারীস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন মিনতি রায়। তিনি উপজেলার বনপাড়া মৃধাপাড়া গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী অখিল রায়ের স্ত্রী।
১২ বছর বয়সে দরিদ্র পরিবারে বিয়ে হয় তার। বাল্যকালে বিয়ে হওয়ায় যেসব অসুবিধার মুখোমুখি হয়েছেন, সেগুলো সহ বাল্য বিয়ের কুফল ও নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ে বনপাড়া, গুনাইহাটি, মানিকপুর, ছাতিয়ানগাছা, হারোয়া গ্রামে সেচ্ছায় পাঁচ বছর যাবত সেমিনার ও উঠান বৈঠক করে আসছেন তিনি।
গুনাইহাটি গ্রামের মঞ্জুয়ারা খাতুন জানান, নারীদের প্রজনন, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মিনতি রায় চিকিৎসকদের সহায়তায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে থাকেন। তাঁর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক কিশোরী অকাল বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে জানতে পারছে। তার এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা সমাজে বাল্যবিবাহের হার কমাতে এবং নারী স্বাস্থ্যের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
ছতিয়ানগাছা গ্রামের সুলেখা গমেজ জানান, মিনতি রায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে বসেন ও তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেন। একপর্যায়ে তিনি “আমরা স্বাধীন মহিলা সমবায় সমিতি লিঃ ” নামে একটি সংগঠন তৈরী করেন। সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে সমাজ থেকে কিভাবে বাল্য বিবাহ দুর করা যায় সে বিষয়ে তিনি মাঝে মাঝে সেমিনার করেন। নারী রোগাক্রান্ত রোগীদের নিয়ে সেচ্ছায় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ওই সংগঠনের আমি একজন সদস্য।
মাঝগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল আজিজ জানান, নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে মিনতি রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে দক্ষ সেবক হয়ে উঠবেন ও সরকারী কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবেন।