নিজস্ব প্রতিবেদক ## নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রেমের টানে মামাতো-ফুফাতো ভাইবোনের পালিয়ে বিয়ের জেরে কনের স্বজনদের বিরুদ্ধে ছেলের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ভোর চারটার দিকে উপজেলার পার-বাগডোব গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই মাস আগে পার-বাগডোব গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে সিয়াম (২০) তার মামাতো বোন পাশের ভরতপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে জুবায়দা ইশরাত (১৮) কে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা তাদেরকে খুঁজে বের করে মেয়েকে তার বাবার হাতে তুলে দেন। কিন্তু গত ৩১ মার্চ তারা দুজন পুনরায় পালিয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুর রহমান আদালতে সিয়াম, তার পিতা-মাতা ও বড় ভাইয়ের নামে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকায় সিয়ামের ভাবী জুলেখা খাতুন শিশু সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন।
এ সুযোগে বুধবার ভোর চারটার দিকে আব্দুর রহমান ও তার ভাই আব্দুল জাব্বারের নেতৃত্বে ৭-৮ জন ব্যাক্তি লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সিয়ামের বাড়িতে হামলা করে। তারা চারটি ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুরসহ জুলেখা ও তার শাশুড়ির মোট ১০ ভরি সোনার গহনা এবং সিয়ামের বড় ভাইয়ের মুদিখানা দোকানের হালখাতার নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা লুটে নেয়। এতে বাধা দেয়ায় তারা সিয়ামের অন্ত:স্বত্তা ভাবী জুলেখা খাতুনকে বেধড়ক মারপিট করে।
পরে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। জুলেখা খাতুনকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুর রহমান মোল্লা বলেন, আমরা কোন হামলা-ভাংচুর করিনি। বরং ওই বাড়িতে মেয়ের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তারাই আমার স্ত্রীকে মারপিট করেছে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো: আলমগীর কবিরাজ