না গ রি ক   স চে ত না মূ ল ক   ত থ্য প ত্র

আয়কর-আপনার অধিকার ও দায়িত্ব

সহজ ভাষায় আয়কর বিষয়ক জরুরি তথ্য । বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (ঘইজ) অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী

 আয়কর কী?

আয়কর হলো সরকারকে দেওয়া এক ধরনের প্রত্যক্ষ কর, যা আপনার সার্বিক আয়ের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। এই অর্থ দিয়ে সরকার রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, শিক্ষপ্রতিষ্ঠান ও দেশের উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করে। সহজ কথায়-আপনার কর দেশের জন্য বিনিয়োগ।

কাদের আয়কর দিতে হয়?

বাংলাদেশে বসবাসকারী যে কোনো ব্যক্তি, যার বার্ষিক আয় সরকার নির্ধারিত করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাকে আয়কর দিতে হয়।

শ্রেণি                                                                           করমুক্ত আয়সীমা (বার্ষিক)

সাধারণ করদাতা (পুরুষ)                                                         ৩,৫০,০০০ টাকা

মহিলা ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে                                                     ৪,০০,০০০ টাকা

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি                                                                ৪,৭৫,০০০ টাকা

গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা                                                    ৫,০০,০০০ টাকা

 

 TIN কেন দরকার?

সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, নিচের কাজগুলো করতে হলে অবশ্যই কর শনাক্ত করণ নম্বর (TIN) থাকতে হবে-জমি বা ফ্ল্যাট কেনা-বেচা; ব্যাংকে সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব (নির্দিষ্ট সীমার উপরে); জাতীয় সঞ্চয়পত্র ক্রয়; ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন; এবং সরকারি দরপত্র বা ঠিকাদারি কাজে অংশগ্রহণ। TIN নিবন্ধন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং অনালাইনে etaxnbr.gov.bd – এ করা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ: আয়কর ভয়ের বিষয় নয়!

TIN থাকলেই আয়কর দিতে হয় না। আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলে শুধুমাত্র প্রতি বছর “ শূন্য বিবরণী” জমা দিলেই হয়- কোন অর্থ পরিশোধ করতে হয় না। এটি অনলাইনে বা নিকটস্থ কর অফিসে অফলাইনেও জমা দেওয়া যায়।

রিটার্ন দাখিল না করলে কী হবে?

TIN থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা ও সুদসহ অতিরিক্ত কর আরোপ হতে পারে। প্রতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হয়। তাই সময়মতো শূন্য বিবরণী হলেও জমা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

TIN স্থগিত করতে চাইলে?

যদি কেউ ব্যবসা বন্ধ করেন বা ঞওঘ আর প্রয়োজন না হয়, তাহলে নির্ধারিত কর অঞ্চলে লিখিত দরখাস্ত করে TIN স্থগিত করা সম্ভব। এজন্য সর্বশেষ রিটার্ন জমার প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিতে হবে।

 কর ছাড় ও সুবিধা

আয়কর শুধু দায় নয়, এতে সুবিধাও আছে। বিনিয়োগ কর রেয়াত পেতে পারেন-জীবন বিমা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ারে বিনিয়োগের উপর আয়করের ১৫% পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। সঠিকভাবে রিটার্ন দাখিল করলে এই সুবিধা উপভোগ করা সহজ।

সরকারি তথ্য ও সহায়তা-জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হেল্পলাইন: ১৬১২৫ ।

 

বিস্তারিত  জানার  জন্য  যোগাযোগ  করুন

 

কাশীনাথ দাস

বি.কম (সম্মান), এম.কম ডিএআইবিবি

আয়কর পরামর্শদাতা

০১৭৩১-৯০১৭৪৪