সালাম দিয়ে সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট

নিজস্ব প্রতিবেদক ::

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় জোটের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে নীতিগত আপত্তি জানিয়ে তারা এই ওয়াকআউট করেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর তিনি বিরোধীদলের বিভিন্ন দাবি ও আপত্তির বিষয় সংসদে তুলে ধরেন।

বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় সামনে থাকলেও অধিবেশনের শুরুতেই কয়েকটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অথচ তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করা। বিরোধীদল মনে করে, খণ্ডিতভাবে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কারের মূল দাবিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সংসদীয় প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই তাদের অন্যতম প্রধান আপত্তি। বিরোধীদল বৃহত্তর স্বার্থে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন চায়।

এ সময় তিনি বলেন, বেসরকারি দিবসটি বেসরকারি সদস্যদের জন্য হলেও সেখানে সরকারি বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এভাবে সংসদকে একতরফাভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সংস্কারের মূল দাবিকে আড়াল করতে তারা রাজি নন।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও জানান, জনগণের পক্ষে কথা বলা এবং জনদুর্ভোগের বিষয় সংসদে তুলে ধরার জন্য বিরোধীদল চারটি নোটিশ দিয়েছে। এসব নোটিশ নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এরপর ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, তারা আর ওই পর্বের আলোচনায় অংশ নেবেন না। তিনি বলেন, বিরোধীদল এখন সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে আবার সংসদে ফিরে এসে জনগণের পক্ষে কথা বলবে। এরপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।

ওয়াকআউটের আগে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিরোধীদলীয় নেতাকে অধিবেশনে থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা বিরোধীদলের রয়েছে, তবে সংসদের ভেতরে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা দরকার। পক্ষ-বিপক্ষের বিতর্কের মধ্য দিয়েই সংসদীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

পরে ডা. শফিকুর রহমান ডেপুটি স্পিকারকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তাকে সালাম দিয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলেন। এরপর তিনি অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তার সঙ্গে বিরোধীদলীয় জোটের অন্য সংসদ সদস্যরাও সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত ৮টা ৫ থেকে ৮টা ৭ মিনিটের মধ্যে বিরোধীদলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, সংবিধান সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদলের আপত্তি এর আগেও দেখা গেছে। এর আগে গত ১৩ জুলাই বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন।