হযরত ঈমাম হোসাইন একটি দ্রোহের নাম

শাহিনা খাতুন রনজু/

হযরত ঈমাম হোসাইন একটি দ্রোহের নাম, একটি প্রতিবাদের নাম, একটি ন্যয়পরায়নতার, একটি বিজয়ের, ভালবাসার, ত্যাগ আর অমরত্বের নাম। তিনি ৬২৬ খৃঃ এর ৮ জানুয়ারী ৪ হিজরি ৩ শাবান আধুনিক সৌদি আরব অঅর্থাৎ পূর্বে আরব উপদ্বীপের হেজাজ অর্থাৎ মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলা আলী ইবনে আবু তালিব এবং মাতা খাতুনে জান্নাত মা ফাতেমা। আগামীকাল ১৭ মার্চ ২০২১/ ৩ শাবান ১৪৪২ মাওলা হোসাইনের শুভ আগমন দিবস। তাঁকে নিয়ে একটু লিখতে চেয়েছিলাম। সময় অভাবে হলোনা। তবে আল্লাহ পাক চাইলে নিশ্চয়ই লিখবো। আজ একটা কবিতা দিয়ে ভালবাসা প্রকাশের চেষ্টা করলাম।

ফোরাতের জলে ভেসে গেছে
তোমাকে ভালবাসি
সেকথা কিভাবে জানাবো?
ভেবেছি এক হাজার প্রদীপ জালাবো তোমার নামে
কোন খোলা প্রান্তরে দাঁড়িয়ে
অথবা কোন মহাজনের শিরনী তলায়
চিৎকার করে বার বার তোমার নাম ধরে ডাকবো।
তোমার নামাঙ্কিত এক হাজার নিশান টানাবো
তোমার সাথে সাথে তোমার সঙ্গীদের নাম নিয়ে সুর করে কাঁদবো।
এরপর একটা লালরঙ চাদরে
তোমার নামে সুতো কেটে ফুল দিয়ে নকশা আঁকবো
সে চাদর তোমার গায়ে জড়িয়ে দিয়ে
চারিদিকে হাজার রকম ফুল দিয়ে ভরিয়ে দেবো
গোলাপ গাঁদা চন্দ্রমল্লিকা গ্লাডিওলাস জারবারা জুঁই জবা গন্ধরাজ এস্টার এসব সব ফুল
কিন্তু দুচারটা রাঁধাচূড়া কৃষ্ণচূড়া ভাটফুল আর ভেন্নার ফুলও নেবো কিন্তু।
অতপর তোমার চরন তলে বসে
তোমার জন্য একটা গান গাইবো
যে গান বহু বছর ধরে লিখেছি
একটু একটু করে প্রতিদিন সুর দিয়েছি
যতবার সুর দিতে চেয়েছি ততবার পাখিরা পোকারা নদীরা আমায় প্রশ্ন করেছে
তাদের ধ্বনি নিয়েছিতো?
আমার বহুজনমের ভুল সংস্কার
তুমি ধুয়ে দিয়েছো হে প্রিয়।
তোমার স্মরণ প্রেমাগ্নি প্রজ্জ্বলিত করে
আমার পূর্ব অর্জিত ভুল স্মৃতিরা
আকাশে উড়ে যায়
আমি প্রতিক্ষণ একটু একটু করে নির্মল হই।
আর প্রহর গুনি তসবি দানায়।
তোমার প্রেম সহশ্র ঝর্ণা ধারা হয়ে
কারবালা নামের সাগরে মিশে গেছে
আর আমার দুঃখগুলো
ফোরাতের জলে ভেসে গেছে।
আমি এক বিরহী পাপিয়া
পূবের দেশে থাকি
আমার কোন নাম নেই
পূবের দেশে সূর্য অস্তাচল যখন গভীর হয়
চুপিচুপি আমি নাজাফ হয়ে তোমার কাছে যাই
তোমাকে খুঁজতে থাকি
জুলজানাহ নামের তোমার প্রিয় ঘোড়ার
পায়ের আওয়াজ শুনতে পাই
যে পথে তুমি হেটেছিলে সেপথ এখনো
উন্মুখ হয়ে আছে
যদি আবার কোনদিন তুমি ফিরে আসো
সেই অপেক্ষায়
আমি বিড়বিড় করে বলি ভালবাসি তোমায়।
১৬/৩/২০২১
২ শাবান ১৪৪২