বড়াইগ্রামে কৃষকের কাছে পাটখড়ি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্যহয়ে উঠছে

নিজস্ব প্রতবিদেক, মো. আলমগীর কবরিাজ :
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় পাটখড়ির ব্যবহার দিন-দিন বেড়েই চলেছে। গ্রামের মাটির চুলায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পর এর খুব একটা অর্থনৈতিক মূল্য ছিল না। কিন্তু সময় বদলেছে। পাটখড়ির ব্যবহার বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে বাজার। এখন কৃষকের কাছে পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটখড়িও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্য হয়ে উঠছে।
পাটের বাজার দর নিয়ে কৃষকের প্রত্যাশা সবসময় পূরণ হয় না। কানো কোনো ক্ষেত্রে পাটের চেয়ে পাটখড়ি বিক্রি করেই বেশি অর্থ পাচ্ছেন কৃষক।ফলে গত কয়েক বছর যাবত পাটখড়ির বাড়তি চাহিদা থাকায় কৃষকরানতুন করে পাট চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।
উপজেলার দ্বারীখৈর গ্রামের পাটচাষি মোতালেব হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে কৃষকের ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘায় পাট খড়ি উৎপাদন হয় ১৫ থেকে ২০ মন এবং প্রতি মন বিক্রি হয় গড়ে ১০০০ টাকায়। পাট আঁশ বিক্রি করে, উৎপাদন খরচ বাদ দিলে খুব বেশি লাভ থাকে না। কিন্তু পাটখড়ি বিক্রি করে বাড়তি টাকা পাওয়া যায়। আগে এটি ছিল অন্যান্য জ্বালানির সহযোগী। তবে এর ব্যবহার এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে। বাড়ির বেড়া, গোয়াল ঘর কিংবা অস্থায়ী ঘের তৈরিতে পাটখড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষকরা জমির চারপাশে বেড়া দেয়ার কাজেও এটি ব্যবহার করেন। সবজি বা অন্যান্য ফসলের জমি পশুর হাত থেকে রক্ষা করতে অস্থায়ী বেড়া তৈরিতেও পাটখড়ি কাজে লাগে।
উপজেলার হারোয়া গ্রামের কৃষক সাব্দুল আলী বলেন,পাটখড়ি শুকিয়ে সংরক্ষণ করা সহজ। কৃষকরা মাঠ থেকে পাটখড়ি সংগ্রহের পর রাস্তার পাশে, মাঠে কিংবা বাড়ির উঠানে রোদে শুকিয়ে নেন। উপজেলার প্রতিটি গ্রামেই পাট খড়ি শুকাতেব্যস্তএখন কৃষকরা।শুকানোর পর ছোট ছোট আটি করে তা সংরক্ষণ করা হয়। পাটখড়ির চাহিদা এখন শুধু গ্রামে সীমাবদ্ধ নেই। শহর-বন্দরেও বাজারে ফেরি করে পাটখড়ি বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এরফলে কৃষকের উৎপাদিত পাটখড়ি সরাসরি গ্রামীণ বাজার ছাড়িয়ে শহরে পৌঁছে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী আলতাব হোসেন বলেন, কৃষকের কাছ থেকে মানভেদে এক বিঘা জমির পাটখড়ি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দরে কিনি। পরে ছোট ছোট আটি করে গ্রাম ও শহরের ফেরি করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করি। তবে ঢাকা ও চট্রগ্রাম সহ বিভিন্ন শহরে সংশ্লিষ্ট মিল-কারখানায় উচ্চ দামে বিক্রি হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সজিব আল মারুফ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০২২০ হেক্টর, চাষ হয়েছে১০৮৭৫ হেক্টর বা ৮১২৩৬ বিঘায়। জমি ভেদে প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ২০ মন পাটখড়ি উৎপাদন হয়।
ডাইরেক্টর অফ রিসার্চ এন্ড পাবলিকেশন সেল ও বাউয়েট (বিশ^বিদ্যালয়) এরকেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টেরঅধ্যাপক ড. ছাইফুল ইসলাম বলেন,পার্টিকেল বোর্ড ও ফাইবারবোর্ড, কাগজ তৈরি,প্রিন্টার মেশিনের কালি, হস্তশিল্প ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে স্বল্পমাত্রায় পাটখড়িকাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।তবে সংশ্লিষ্ট মিল-কলকারখানা স্থাপিত হলে কাঁচামাল হিসেবে ইহা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে পাটখড়ির বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন।