একটানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চল প্লাবিত।

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ::

সমদ্রে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম,বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলা সমুহের বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।পাহাড় ধসের কারণে এই তিন জেলায় অন্ততঃ পনের-বিশের কাছাকাছি হতাহতের খবরা-খবর পাওয়া গেছে।পাহাড় ধসে উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পেই ০৫ পাঁচজন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী,আজিজ নগরে একই পরিবারের ০৫ পাঁচজনসহ ২০বিশজনের কাছাকাছি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে এসব জেলায় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। প্রশাসনের কার্যকরী ও সময়োপযোগি পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যত্যয় ঘটলে তখনই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।বাস্তূহারা লোকেরা পাহাড়ের ঢালে বা পাদদেশে কোন রকম মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নেয় এই সব ঝূঁকিপূর্ণ জায়গায়।আর এই দিকে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস পেলে প্রশাসন তড়িঘড়ি করে এই সব লোকদের সরানোর ব্যবস্থা করলে অনেকেই সরে আসে না তাদের ঝপড়ি ঘর হারানোর ভয়ে। এসব লোকেরাই পাহাড় ধসেই মৃত্যু ঘটে। পাহাড়ে পাহাড়ধস আর নিম্নাঞ্চল একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা আর টানা ভারী বর্ষণে দেখা দেয় বন্যা।এ অঞ্চলের মানুষ এখন পানিবন্দি। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট।জানামতে অতীতে আরও বেশি বৃষ্টি হতো কিন্তু বৃষ্টির পানি আটকে থাকতো না। সাথে সাথে পানি চলে যেত এবং কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না। এখন এসব অঞ্চল প্লাবিত হওয়ার মূল কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্পায়ন,

আবাসনসহ নানাবিধ বিষয়।মানূষ বাড়িঘর এমন ভাবেই নির্মাণ করছে পয়ঃনিষ্কাশনের কোন রকম ব্যবস্থা না রেখেই।যদ্দরুন বৃষ্টি হলেই দেখা দেয় বন্যা।আর বন্যা মানেই অপরিসীম দূর্ভোগ। বন্যা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস সহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটার পেছনের মূল কারণ আমরাই। জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা এসব দূর্যোগের ব্যাপকতা ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় প্রাণহানিসহ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল।