শিলাইদহে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দাওয়াত পত্রে জামায়াতের দুই এমপির নাম নেই, নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের দাওয়াতপত্রে নাম নেই জামায়াতের দুই এমপি’র। দাওয়াত পত্রে জামায়াতের দুই এমপির নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তালিকায় নাম না থাকা দুজন এমপি হলেন, কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি মুফতি আমির হামজা ও কুষ্টিয়া-৪ আসনে (কুমারখালী-খোকসা) আসনের এমপি মো. আফজাল হোসেন।
জাতীয় পর্যায়ে আগামী ৮, ৯ ও ১০ মে (২৫, ২৬ ও ২৭ বৈশাখ) এই অনুষ্ঠান পালিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্রাটেজি (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) ডা. জাহেদ উর রহমান।
জানা যায়, শিলাইদহে তিন দিনের অনুষ্ঠান ঘিরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা স্বাক্ষরিত একটি দাওয়াত পত্র জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিলি করা হয়। অন্যদিকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের তরফেও অনুষ্ঠান সূচি সাজিয়ে আরেকটি দাওয়াত পত্র ছাপানো হয়। কিন্তু ওই দুটি দাওয়াত পত্রের কোনোটিতেই এমপি আমির হামজা ও এমপি আফজাল হোসেনের নাম অতিথির তালিকায় নেই। এতে ওই দুই এমপির মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে বলে দাবি করছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সুজা উদ্দিন জানান, আমরা প্রচলিতভাবে দেখে আসছি—স্থানীয় এমপি তো বটেই, এই ধরনের অনুষ্ঠানে সদর আসনের এমপিকেও দাওয়াত দেওয়া হয়। সেখানে সদর আসন ও স্থানীয় এলাকায় নির্বাচিত দুই এমপিকে দাওয়াত না দিয়ে তাদের মর্যাদাহানির পাশাপাশি যারা দুই এমপিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, সেই জনগণকে অসম্মান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না করতে জেলা প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এই জামায়াত নেতা।
এদিকে কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি মো. আফজাল হোসেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা কুমারখালীর শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালিত হবে। অথচ আমাকে দাওয়াত করা হবে না তা হতে পারে না। এটি চরম অন্যায়, অমানবিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কিংবা জেলা প্রশাসনের তরফে দাওয়াত পত্র ছাপানোর আগে নাম অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ তার সাথে যোগাযোগ করেছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি মো. আফজাল হোসেন বলেন, আমার সঙ্গে দাওয়াত পত্র বিষয়ে কেউ কোনো কথাই বলেনি।
এ বিষয়ে এমপি মুফতি আমির হামজার মোবাইলে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোন রিসিভ করেননি তিনি। এতে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
ডিসি কার্যালয়ের সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, রবীন্দ্র জয়ন্তীর কার্ড মুলত ছাপানো হয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে। সেটি অনুসরণেই জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিথিসহ অনুষ্ঠান সূচি সংবলিত আরেকটি দাওয়াত পত্র ছাপানো হয়েছে।