হস্তশিল্পের সফল উদ্যোক্তা বাগাতিপাড়ার কামরুল

খাদেমুল ইসলাম ॥ ছোটবেলা থেকেই মনে স্বপ্ন ছিল নতুন কিছু করার। সেই স্বপ্ন আর আত্মবিশ্বাস থেকেই পথ চলা। মাঝপথে প্রতিবন্ধকতা, তারপরেও হতাশায় রাতের ঘুম নষ্ট না করে আগামী দিনের সোনালী স্বপ্নকে বুকে লালন করে অবশেষে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছে আত্মপ্রত্যয়ী কামরুল ইসলাম। তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের গালিমপুর পারকুঠী গ্রামের নাজিমুদ্দিনের ছেলে।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, ছোটবেলায় অভাব-অনটনে লেখাপড়া করতে না পারা সেই ছেলেটির স্বপ্ন বুনন শুরু হয় তখন থেকেই। তারপরে আস্তে আস্তে অভীষ্ঠ লক্ষ্যে এগিয়ে চলা। অটল আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি গা ঘোসার মাজুনি তৈরির প্রথম কাজ শুরু করেন ২০১৪ সালের শেষের দিক থেকে। মাঝে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকলেও জীবন সংসারে যুদ্ধ করে ভাগ্যের চাকা ঘোরানো অদম্য এই ব্যক্তির মনের আশা পূরণ হয় ২০১৫ সালে এসে। বর্তমানে বেশ ভালোই চলছে তার গা ঘোসার মাজুনি তৈরি হস্তশিল্পের কাজ। প্রায় এক হাজার অভাবগ্রস্থ নারী এই শিল্পের সাথে নিজেদের যুক্ত করে সচ্ছলতার মুখ দেখছেন।
বাগাতিপাড়ার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা যায় গ্রাম্যবধু, আত¦ীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীগণ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে বসেই নিপূণ হাতে মনের মাধুরী মিশিয়ে রং বেরংয়ের সুতা দিয়ে তৈরি করছেন গোসল সহ হাত-পা, মুখমন্ডল পরিচ্ছন্ন করার প্রয়োজনীয় এই উপকরণটি। যা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায়। দিন দিন বিদেশেও এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যারা অলস সময় বসে না থেকে সময়কে কাজে লাগাতে চান, তারাও যোগ দিতে পারেন এই হস্তশিল্পে। সমাজের অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অনেকেই কামরুলের হস্তশিল্পের এই মাজুনি বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
হস্তশিল্পের এই সফল উদ্যোক্তা কামরুল ইসলাম বলেন, “আমার দুই সন্তান যে স্কুলে পড়ে সেখানে অনেক অভিভাবক আছেন যারা স্কুলে বাচ্চাদের রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে সময় কাটান। আমি তাদের অনেককে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের এই অবসর সময়টা কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছি। তারা এখন হাতের কাজ করে বাড়তি টাকা আয় করছেন”।
পরিচিতির অভাবে পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না বলে কিছুটা হতাশ কামরুল বলেন, আমার কাছ থেকে পণ্য নিয়ে বিভিন্ন মেলায় বিক্রি করেন অনেক ব্যবসায়ী। আবার অনেকে বিদেশেও নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অক্লান্ত প্ররিশ্রমের পর আমরা অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের ন্যায্য মজুরিও দিতে পারছি না। সরকার দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও দাতা সংস্থার মাধ্যমে নানা সহযোগিতা দিচ্ছে উদ্যোক্তাদের। সে দিক থেকে আমি এখনও বঞ্চিত।
তিনি সরকারী বে-সরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান এবং উৎপাদিত পণ্যের মান যাচাই করে বাজারজাত করণে সহযোগিতার আবেদন জানান। এছাড়া সফল এই উদ্যোক্তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা। সেজন্য তিনি সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •