স্টাফ রিপোর্টার :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৬টি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা শহরের মোট ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিন রিজিয়নের আওতাধীন বিজিবি ইউনিটগুলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে।
এ লক্ষ্যে রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৫৮টি বেইজ ক্যাম্প থেকে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
যশোর রিজিয়নের অধীন কুষ্টিয়া সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ চারটি জেলার মোট ৬৬টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রায় ৭০০ বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) আজ ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
সে লক্ষ্যে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলা এবং মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সীমান্ত থেকে ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ৫ প্লাটুন এবং কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন সদরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপগুলো একাধিকবার সরেজমিনে পরিদর্শন ও রেকি করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও আয়োজক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পূজামণ্ডপে মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি বজায় রাখবেন। পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করা হবে।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ দুটি জেলার প্রায় ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া সীমান্ত সুরক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে।
বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ। এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। এ লক্ষ্যে সর্বস্তরের নাগরিক, পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)।
বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে। এ কথা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।